কুরআনের একটি গুরুত্তপূর্ণ আয়াত আছে যা আলাহর কিতাবের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সব থেকে মর্যাদাবান। এই আয়াতের ফযিলত অনেক, শুধু মৃত্যু তার জান্নাতে যাওয়ার পথে বাঁধা। তার মৃত্যু হয় না, তাই জান্নাতে যেতে পারে না। মৃত্যু হলেই সে জান্নাতের বাসিন্দা হয়ে যাবে। আসুন কুরআন ও হাদিসের আলোকে আমরা জেনে নেই।
উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) হতে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম যে কুরআন শিখে এবং অন্যকে শিখায়। সহিহ বুখারী ৫০২৭(তা), ৫০২৮(তা), ৪৬৫৭(ইফা), ৪৬৫৮(ইফা), ৫০২৪(ই)
কুরআনের একটি গুরুত্তপূর্ণ আয়াত আছে যা আলাহর কিতাবের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সব থেকে মর্যাদাবান। এই আয়াতটিকে আয়াতুল কুরসী বলে। কুরআনের দ্বিতীয় সুরাহ ২৫৫ নম্বর আয়াত এটি।
আয়াতুল কুরসী
ٱللَّهُ لَآ إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلْحَىُّ ٱلْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُۥ سِنَةٌۭ وَلَا نَوْمٌۭ ۚ لَّهُۥ مَا فِى ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ۗ مَن ذَا ٱلَّذِى يَشْفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذْنِهِۦ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَىْءٍۢ مِّنْ عِلْمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ ۖ وَلَا يَـُٔودُهُۥ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ ٱلْعَلِىُّ ٱلْعَظِيمُ
উচ্চারণঃ আল্লহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়ুম। লা তা’ খুজুহু সিনাতু ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিস সামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ। মান জাল্লাজি ইয়াশ ফাউ ইনদাহু ইল্লা বি ইজনিহি, ইয়া’ লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খলফাহুম, ওয়ালা ইউ হিতুনা বিশাই ইম মিন ইল মিহি ইল্লা বিমা শা’আ, ওয়াসিয়া কুরসি ইউহুস সামা ওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলিইয়ুল আজিম।
অর্থঃ আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বদা রক্ষণাবেক্ষণকারী। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সব তাঁরই। কে সেই ব্যক্তি যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। পক্ষান্তরে মানুষ তাঁর জ্ঞানের কোনকিছুই আয়ত্ত করতে সক্ষম নয়, তিনি যে পরিমাণ ইচ্ছে করেন সেটুকু ছাড়া। তাঁর কুরসী আকাশ ও পৃথিবী পরিবেষ্টন করে আছে এবং এ দু’য়ের রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না, তিনি উচ্চ মর্যাদাশীল, মহান।
- আল্লাহর কিতাবের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান আয়াত হচ্ছে আয়াতুল কুরসী।
- সহিহ বুখারী ১৭৫৮(ইফা)
- সুনানে আবু দাউদ ১৪৬০(ইফা), ১৪৬০(তাহ)
- সুনানে আত তিরমিজী ২৮৮৪(ইফা)
- মুসলিম ১৯২১, ১৩৯৬
- যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয সালাত শেষে আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে, সে ব্যক্তির জন্য তার মৃত্যু ছাড়া আর অন্য কিছু জান্নাত প্রবেশের পথে বাধা হবে না।
- নাসাঈ কুবরা ৯৯২৮, ৯৪৪৮
- ত্বাবারানী ৭৫৩২, ৭৪০৮, ৭৮৩২
- সহীহুল জামে ৬৪৬৪
- সিলসিলা সহিহা ৯৭২
- শুআবুল ঈমান : ২৩৯৫
- নাসাঈ, সুনানুল কুবরা: ৬/৩০
- সহিহুত তারগিব: ১৫৯৫
- বুলুগুল হারাম ২ঃ২২০
- প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসী পাঠ করলে, আল্লাহর তরফ হতে তার জন্যে একজন রক্ষক নিযুক্ত করা হয় এবং ভোর পর্যন্ত শয়তান তার কাছে আসতে পারবে না।
- সহিহ বুখারী ইফা ৩০৪৫, ২১৬২, ৪৬৪৬ তা ২৩১১, ৩২৭৫, ৫০১০ ই ২৩১১, ২৩১২, ৩২৭৪ – ৩২৭৫, ৫০০৮, ৫০০৯ ও ৫০১০
- সুনানে আত তিরমিজী ২৮৮০(ইফা)
- মিশকাত ২১২৩
- সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ ২৪২৪,
- আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ৪০৬,
- সহীহ আত্ তারগীব ৬১০
- সহিহ ইবনু হিব্বান ৭৮১
Comments
Post a Comment